Ad Code

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন-নিজের নাম কীভাবে সংশোধন করবেন এবং যেসব তথ্য লাগবে

 ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন-নিজের নাম কীভাবে সংশোধন করবেন এবং যেসব তথ্য লাগবে


অনেকের ভোটার আইডি কার্ডে কিছু তথ্য ভুল হয়ে যায়। তাই আমাদের ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার প্রয়োজন হয়। আমরা সকলেই জানি জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড কত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সামান্য ভুল অনেক বড় সমস্যার কারন হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম সন্ধান করে থাকি। অনেকেই আবার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন কে কঠিন মনে করে ভয় পায়। বেশির ভাগ মানুষ জানেই না যে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা যায়। প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে নানাবিধ সমস্যায় পড়ে থাকি। তো এই সকল সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন এই পোষ্ট এ। Nid সংশোধন A to Z আপনাকে জানানো হবে। কী কী করলে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র  খুব দ্রুত সংশোধন হয়ে যাবে।

আরও দেখুন


ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম


যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রে কোন সমস্যা থেকে থাকে। অর্থাৎ যদি আপনার নাম, জন্মতারিখ, পিতামাতার নাম, ভোটার এলাকা ইত্যাদি যেকোন কিছু ভুল হয়। তবে খুব সহজেই আইডি কার্ড সংশোধন করতে পারেন। ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার ২ টি নিয়ম রয়েছে।

  1. নিজে গিয়ে nid সংশোধন করা।
  2. অনলাইনের মাধ্যমে nid সংশোধন করা।

নিজে গিয়ে nid সংশোধন করা

যখন আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার প্রয়োজন হবে। তখন আপনার উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে nid songsodhon করতে পারবেন। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফরম অর্থাৎ ২ নম্বর ফরম সংগ্রহ করে পূরন করতে হবে। এর পর শুধু ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি জমা দিয়ে, তাঁর রশিদ এবং অন্যান্য সকল তথ্যাদি আবেদন পত্রের সাথে সাথে সংযুক্ত করে জমা দিয়ে দিন। আবেদন জমা হলেই আপনার nid card songsodhon প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। 


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন-নিজের নাম কীভাবে সংশোধন করবেন এবং যেসব তথ্য লাগবে

অনলাইনের মাধ্যমে nid সংশোধন করা

তুলনামুলক ভাবে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা অনেক সহজ। আপনার হাতে থাকা স্মার্ট ফোন বা কম্পিটারের মাধ্যমে মুহূর্তেই জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করে ফেলতে পারেন। এর জন্য আপনাকে নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করতে হবে-

প্রয়োজনীয় তথ্যের ছবি নেওয়া

অনলাইনে আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য প্রথমে আপনার প্রয়োজনীয় সকল তথ্য স্ক্যান করে নিতে হবে। চালে ছবি দিয়েও কাজ চালানো যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে ছবি যেন স্পস্ট হয়। খেয়াল রাখতে হবে ছবি যেন ঘোলা না হয়। প্রয়োজন অনুসারে ছবি চারপাশে ক্রপ করে নিতে পারেন।


সহজেই যেন খুঁজে পাওয়া যায় তাই, ছবি বা স্ক্যান করা ডকুমেন্ট গুলো সেভ করে রাখুন।

নির্বাচন কমিশন এর ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্যার করা

নির্বাচন কমিশন এর অফিশিয়াল অয়েবসাইট (https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/) এ রেজিস্ট্যার করতে হবে। উক্ত লিংক এ গেলেই রেজিস্ট্যার অপশন দেখতে পারবেন। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কাজ সম্পন্ন করুন। কমিশন এর ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্যার করার জন্য আপনাকে ফেইস ভেরিফাই করতে হবে।


ভোটার আইডি কার্ড ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্যার এখান থেকে ফেইস ভেরিফিকেশন সম্পর্কে বিস্তারিত যানতে পারবেন। 

ভোটার তথ্য সংশোধন করা

নির্বাচন কমিশন এর ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্যার করার পর ভোটার তথ্য সংশোধন করতে পারবেন। আপনার প্রোফাইল থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য, ঠিকানা। এখান থেকে যে তথ্য চান এডিট বাটনে ক্লিক করার মাধ্যমে সম্পাদন করতে পারেবেন।নিজের নাম কীভাবে সংশোধন করতে চাইলে ব্যক্তিগত  তথ্য থেকে করতে পারেন। যদি অন্যান্য তথ্য বা ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয় সেটিও করতে পারেন। 


এডিট করার পর “পরবর্তী” (Next) বাটনে ক্লিক করে প্রিভিউ দেখে নিন সব কিছু ঠিক আছে কিনা।

ফি প্রদান করা

এর পর আপনাকে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফি প্রদান করতে হবে। বিকাশ / রকেট / নগদের মাধ্যমে ২৩০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। খেয়াল রাখবেন এর আগে যা করছেন তা ক্লোজ করবেন না, তাহলে আবার প্রথম থেকে করতে হবে। 

প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করা

এই পর্যায়ে আপনাকে সেসব তথ্যের ছবি গুলো আপলোড করতে হবে যেগুলো শুরুতেই তুলে রেখেছিলেন। যদি এখনো আপনি না যেনে থাকেন কী কী তথ্য লাগবে তা নিচে থেকে দেখে নিতে পারেন।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কী কী তথ্য লাগে

আপনার ভোটার আইডি কার্ডে নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য পরিবর্তন এর জন্য কিছু ডকুমেন্ট লাগে যেমন-


  • SSC সনদ পত্র:  যখন অফলাইনে আবেদন করবেন তখন SSC সনদ পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। আবার যখন অনলাইনে  আবেদন করার সময় স্ক্যান বা ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। 
  • জন্মসনদ: অনলাইন বা অফলাইন দুই ভাবেই আপনাকে বাধ্যতামূলক জন্মসনদের ফটোকপি বা ছবি আপলোড করতে হবে। 

অনেকের বিয়ের কাবিন নামা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ পত্র না থাকে। তবে আপনি নিচের তথ্যগুলো দিতে পারেন- 


  • জন্মনিবন্ধনের ছবি/ ফটোকপি বাধ্যতামূলক ভাবে যুক্ত করতে হবে।
  • আপনার সন্তান থাকলে তাঁর ভোটার আইডি কার্ড, জন্মসনদ বা ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি / ছবি। 
  • স্বামী/ স্ত্রী এর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি/ ছবি।
  • আপনার এলাকার জন প্রতিনিধি বা প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত ডকুমেন্ট।
  • আপনি যদি কর্মজীবী হয়ে থাকেন তবে সার্ভিস বই এর কপি।

যদি আপনার নাম পরিবর্তন করতে তাহলে ঐসব ডকুমেন্ট সাবমিট করবেন। যেগুলোতে সঠিক নাম দেওয়া আছে। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার সময় যে ছবি গুলো আপলোড করবেন সেগুলোতেও বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।


আপনার নামের পদবি পরিবর্তন করার জন্য-


  • SSC এর সনদ পত্র এর কপি
  • জন্মনিবন্ধনের ছবি/ ফটোকপি 
  • আপনার স্বামী বা স্ত্রী এর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি/ ছবি
  • বৈবিহিক সনদ পত্রের ছবি
  • পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি বা ছবি
  • আপনার এলাকার জন প্রতিনিধি বা প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত তথ্য

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য উপরের যেসব ডকুমেন্ট আপনার কাছে আছে সেটি দিয়েই কাজ চালাতে পারবেন। 

ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন

যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ডে পুরো নাম সংশোধন করতে চান। তাহলে উল্লেখিত তথ্যের  সাথে একটি হলফনামা যুক্ত করতে হবে। হলফনামা অবশ্যই জুডিশিয়াল কাস্টরি থেকে অনুমোদিত হতে হবে। যখন আপনার পুরো নাম পরিবর্তন করতে হবে, তখন সকল ডকুমেন্টের সাথে আপনাকে উপজেলা নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হতে হবে। 


উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করার পর নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আপনার আবেদন কে যাচাই করবে। আপনার সকল ডকুমেন্ট যাচাই করে যদি গ্রহনযোগ্য মনে হয়। তবে ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন হয়ে যাবে। যখন সম্পূর্ণ নাম সংশোধন করতে হয়,এই আবেদন সহজেই গ্রহন করা হয় না। দীর্ঘদিন যাচাই বাছাই করার পর আশা করা যায় ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন হয়ে যাবে। এছাড়াও কাজটি দ্রুত করার জন্য নিচের পদ্ধতি অনুসরন করতে পারেন। 

দ্রুত ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার উপায়

আপনাকে nid songsodhon দ্রুত করার জন্য আপনাকে সকল তথ্য সঠিক ভাবে প্রদান করতে হবে। উপরে দেওয়া আবেদন এর পদ্ধতিটি যথাযথ ভাবে অনুসরন করুন। তবে খেয়াল রাখবেন আপনার কোন তথ্য যেন ফেইক বা সাজানো মনে না হয়। এমন হলে আপনার আবেদন পুরোপুরি  বাতিল করে দেওয়া হবে।


যখন আপনার আবেদন গ্রহন হয়ে যাবে আপনার মোবাইলে মেসেজ এর মাধ্যমে জানানো হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর অনলাইন থেকে আইডিকার্ড ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এছাড়াও  উপজেলা নির্বাচন কমিশন থেকে সংশোধিত ভোটার কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। 


ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম সংশোধন করার সকল সম্ভাব্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যদি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়েও আইডি কার্ড সংশোধন বিষয়ে যানতে চান তবে তারাও একই তথ্য দিবে।

শেষ কথা

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার সকল সমভাব্য উপায় জানানোর চেষ্টা করেছি। এর পরেও যদি কোন সমস্যা থাকে তবে কমেন্ট করতে পারেন। আরও কোণ প্রশ্ন থাকলে আমাদের ফেসবুক পেইজে প্রশ্ন করতে পারেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ