Ad Code

Responsive Advertisement

Ticker

6/recent/ticker-posts

ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করা পদ্ধতি | ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন

 ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করা পদ্ধতি

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আজকের এই পোষ্টে আপনাকে বলবো যেভাবে আপনার জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারবেন। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা বাবা - মা থেকে সন্তানের বয়স বেশি হয়ে যায় জাতীয় পরিচয় পত্রে। ভুল জন্মতারিখ অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তো খুব সহজেই ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করার উপায় দেখে নিন।

আরও দেখুন


যারা ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারবেন

কেন সকলেই ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারেনা বা কঠিন হয়? আমাদের যখন ভোটার আইডি কার্ড করা হয়। তখন আমাদের সকলের নাম অসংখ্য সরকারী তথ্য ভান্ডারে লেখা হয়। একদম গাছের শিকড়ের মতো। তাই ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন এর আবেদন করা হলে দেখে শুনে বাছাই বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়া হয়। 


যদি আপনার বয়সের সাথে আইডি কার্ডে প্রিন্ট করা বয়সের ব্যবধান অনেক বেশি হয়ে থাকে। তবে আবেদন করতে পারেন। যদি কোন প্রাতিষ্ঠানিক সনদপত্র থাকে তবে সহজেই ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন হয়ে যাবে।

ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করার প্রয়োজনীয় তথ্য

জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডের জন্মতারিখ সংশোধন করার জন্য কিছু তথ্যের প্রয়োজন হয়। আপনি যদি শিক্ষিত হয়ে থাকেন অর্থাৎ শিক্ষা সনদ থাকে তবে যুক্ত করে পারেন। তো দেখে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলো-

শিক্ষিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে

  • জন্মনিবন্ধন
  • এস এসসি এর সনদ পত্র
  • চেয়ারম্যান এর প্রত্যয়ন পত্র
  • পরিবারের সদস্যদের ভোটার আইডি কার্ড

যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই

  • জন্মনিবন্ধন
  • চেয়ারম্যান এর প্রত্যয়ন পত্র
  • পরিবারের সদস্যদের ভোটার আইডি কার্ড
  • এ্যাফিডেভিট (সিনিয়র বা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট দ্বারা)

ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করতে টাকা লাগে

যখন আপনার ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ বা অন্যকোন তথ্য সংশোধন করতে হয় তখন নির্দিষ্ট পরিমান টাকা ফি হিসাবে প্রদান করতে হয়। এটি কোণ অফিসারের হাতে দিতে হবে না সরাসরি সরকারি খাতায় জমা হবে। আপনাকে মাত্র ২৩০ টাকা ফি হিসাবে প্রদান করতে হবে। চাইলে বিকাশ নগদ যেকোন একটি মোবাইল ব্যাংককিং মাধ্যমে এই ফি দিতে পারবেন।

যাদের ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করতে সমস্যা হবে

খুব সহজেই আপনার ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ সংশোধন করতে পারবেন ।যদি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় কাজগ পত্র থাকে। ঠিক তেমনই সমস্যা হয়। যখন আপনার কাছে কোন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সনদ না থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যখন জন্মসাল পরিবর্তন করতে হবে। 


সহজ কথায় যদি বোঝাতে চাই, যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ডে মিস প্রিন্টিং থাকে। অর্থাৎ ভুলে একটা হুদাই জন্মতারিখ বা সাল উঠে যায়। তবে অন্যান্য সনদ দেখিয়ে শুধু মাত্র সেটিই পরিবর্তন করতে পারবেন। যেকোন প্রয়োজন অনুসারে ২/১ বছর কম বেশি করা সম্ভব না।

কীভাবে ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করবো

আপনার  ভোটার আইডি কার্ডে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ফি অর্থাৎ ২৩০ টাকা জমা দিতে হবে। সেই সাথে উপরে বর্ণিত তথ্য সহকারে উপজেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন পত্র দাখিল করতে হবে। আবেদন জমা হয়েগেলে আপনার ডকুমেন্ট যাচাই করা হবে। নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা অথবা কোন পুলিশ সদস্য আপনার এলাকায় এসে সম্পন্ন করবে। 


যখন জন্মতারিখ সংশোধন করতে যাচ্ছেন, সেই সময় আপনার জন্মসনদের সাথে মিল না থাকলে সেটি প্রথমে ঠিক করে নিতে হবে। জন্মসনদে জন্মতারিখ সেটাই হতে হবে যেটি ভোটার আইডি কার্ডে রাখতে চাচ্ছেন।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম

২০২২ সালে সহজেই ঘরে বসেই ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করা যায়। অনলাইনে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ আইডি কার্ড সিস্টেম অথবা Bangladesh Nid Applicaton System ওয়েবসাইটে একাউন্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ আইডি কার্ড সিস্টেম এর ওয়েবসাইটে একাউন্ট না থাকলে NID Card দিয়ে একাউন্ট করে ফেলতে পারেন। এর জন্য-

  • Bangladesh Nid Applicaton System এর ওয়েবসাইটে (https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/) যেতে হবে। 
  • এর পর জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর অথবা ইউজারনেম দিয়ে লগিন করতে হবে। 
  • এখন আপনার সামনে নিচের ছবির মতো পেইজ ওপেন হবে। ৩ টি অপশন দেখতে পারবেন, ব্যক্তিগত তথ্য, অন্যান্য তথ্য, ঠিকানা। যেটা ইচ্ছা পরিবর্তন করতে পারবেন। 
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন

  • জন্মতারিখ সংশোধনের আগে আপনাকে ফি প্রদান করতে হবে, তাঁর পরেই করতে পারবেন। দেখে শুনে তথ্য পরিবর্তন করুন, কেননা ভুল হলে আবার ফি দিতে হতে পারে।
Nid এর অয়েবসাইটে একাউন্ট হয়ে গেলেই ফি প্রদান করে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন করে ফেলতে পারবেন।

উপজেলা অফিস থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম

যখন জন্মসাল পরিবর্তন করতে হবে। অর্থাৎ বড় কোন পরিবর্তনের জন্য সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করাই উত্তম। এর অনেক সুবিধাও রয়েছে, সেখানে গিয়ে সরাসরি যেকোন প্রশ্ন এর উওর পেতে পারেন। [আমাদের পোষ্টে কমেন্ট করলেও দ্রুত উত্তর পাবেন :)] তো দেখে নিন উপজেলা অফিস থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম

জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। আগেই বলেছি শুধু মাত্র মুদ্রণ জনিত সম্যসার প্রবিধান থেকেই আপনার ভোটার আইডি কার্ড জন্মতারিখ সংশোধন করতে পারবেন। তাই ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম ১ পুরন করতে হবে। 


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম

ফরম টি পূরন করার আগে ভালো ভাবে দেখে নিন। কোন প্রকার কাটা ছেড়া করবেন না। প্রয়োজনে একের অধিক ফরম সংগ্রহ করবেন। 


ফরমের সকল তথ্য পূরনের সময় যদি আপনার আইডি কার্ড না থাকে তাহলে আপনার পিতা অথবা মাতার আইডী কার্ডের নাম্বার দিতে হবে। [ পিতা-মাতা না থাকলে যেকোন আইনি অভিবাবক এর আইডি কার্ডের তথ্য দিবেন। ] এর পর দেখে দেখে সকল তথ্য পূরন করবেন। দুইটি তথ্যের ঘর আছে “সংরক্ষিত তথ্য উপাত্তে বিদ্যমান তথ্য” এবং অন্যটি “ চাহিত সংশোধিত তথ্য” যথাক্রমে প্রথমটিতে বর্তমানে বিদ্যমান তথ্য দিবেন আর দ্বিতীয়টিতে যে তথ্য রাখতে চাচ্ছেন সেটা দিয়ে দিবেন। 


এই ফরমের (৩-চ) তে জন্মতারিখ একই ভাবে সংশোধনের করে ফেলতে পারেন। 


ফরম ডাউনলোড লিংক


http://www.nidw.gov.bd/download/NIDForms/print_mistake_correction_form1.pdf


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কত দিন লাগে


অনেক সময় নির্দিষ্ট ভাবে বলা যায় না কতদিন সময় লাগবে। কিন্ত যখন আপনার ভোটার আইডি কার্ডের জন্মতারিখ সংশোধন করতে হবে। অনেক দ্রুতই সংশোধন করে ফেলতে পারবেন। যদি আপনি জরুরি আবেদন করে সেক্ষত্রে ৭ দিনেই পেয়ে যেতে পারেন। আর সাধারন আবেদনের ক্ষত্রে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে।


Nid Office এর তথ্যে বলা হলেও প্রকিত পক্ষে পেতে দেরি লেগে যায়। সাধারনত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই আপনার তথ্য সংশোধন হয়ে যাবে। 


তো এই ছিল ভোটার আইডি কার্ড জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য। আশাকরি আপনার উপকার হয়েছে। যদি ভালো লেগে থাকেন তাহলে শেয়ার করতে পারেন :)


ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর-


প্রশ্ন: অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে পারবো?


উত্তর: হ্যা, অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা সম্ভব। এর বিস্তারিত তথ্য এই পোষ্টে দেওয়া হয়েছে। 


প্রশ্ন: ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম কোথায় পাব?


উত্তর: আমাদের এই পোষ্টে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম এর লিংক দেওয়া আছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে ফটোকপির দোকান থেকে ১ নম্বর ফোরাম [জন্মতারিখ এর জন্য ]পেতে পারেন।


প্রশ্ন:  জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের বিশেষ সুযোগ কোনটি?

 

উত্তর: আমি মনে করি অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের সুযোগকেই জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের বিশেষ সুযোগ বলা যায়। কেননা যেকোন সময় সংশোধন করা যায়।

 

ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ